শুক্রবার, ২৪ Jul ২০২৬, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন
একদিকে আলমগীর ফরিদ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজে ল্যাব সহকারী চাকরি,
অপরদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও অফিস সহকারীর চেয়ার দখল করে রেখেছে। সরকারি চাকরি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর
নিজস্ব প্রতিবেদক
মহেশখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর নিয়মিত উপস্থিতি এবং সরকারি অফিসে টেবিল—চেয়ার ও ল্যাপটপ ব্যবহার নিয়ে শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, আলমগীর ফরিদ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের কম্পিউটার বিভাগের ল্যাব সহকারী ফারুক ইকবাল দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। সাথে দুটি চাকরি সুকৌশলে বজায় রেখেছেন।
স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষকদের অনেকই অভিযোগ করে বলেন, তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে এ প্রভাব বজায় রেখেছেন এবং এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। নেপথ্যে এক বিএনপির শীর্ষ নেতার আশিবার্দ বলে তারা জানান।
জানতে চাইলে মহেশখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শিক্ষক বদলি, পোস্টার—ব্যানার ছাপানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে ফারুক ইকবালের প্রভাব ছিল। তাঁর অভিযোগ, এখনো তিনি আগের মতো প্রভাব বিস্তার করছেন এবং একটি রাজনৈতিক নেতার আশ্রয়—প্রশ্রয়ে তা সম্ভব হচ্ছে।
গত ২১ জুলাই মহেশখালী উপজেলা শিক্ষা ভবনের নিচতলায় গিয়ে দেখা যায়, অফিস সহকারী আশিকের পাশের একটি চেয়ারে ফারুক ইকবাল বসেন এবং একটি ল্যাপটপ ব্যবহার করেন। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে অফিস সহকারী আশিক বলেন, “তিনি মাঝে মাঝে প্রয়োজন অনুযায়ী আসেন।” তিনি নিয়মিত স্টাফ কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি জানি না।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহেশখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, “ফারুক ইকবাল আগে থেকেই এখানে আসতেন। সে কারণেই এখনো মাঝে মাঝে আসেন।” একজন বহিরাগত ব্যক্তি সরকারি অফিসে টেবিল—চেয়ার ব্যবহার করে বসতে পারেন কি না এবং এতে অফিসের গোপনীয়তা বা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি। অসহায়ের সুরে পুনরায় জবাব দেন আগে ছিল তাই এখনো আসেন।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, “আমি আগে বিষয়টি জানতাম না।বিষয়টি এখন জেনেছি। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সবকিছু যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, ফারুক ইকবাল আলমগীর ফরিদ টেকনিক্যাল কলেজের কম্পিউটার বিভাগের ল্যাব সহকারী হিসেবে কর্মরত। তাঁর পদ ১৬তম গ্রেডের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী।
চাকরি বিধি নিয়ে প্রশ্ন:
জনপ্রশাসন—সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী যদি যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া নিয়মিতভাবে অন্য একটি সরকারি অফিসে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হন বা সরকারি সুযোগ—সুবিধা ব্যবহার করেন, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাকরির শৃঙ্খলা, দাপ্তরিক গোপনীয়তা এবং প্রযোজ্য সরকারি বিধি—বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না—তা তদন্তের বিষয়। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
ভয়েস/জেইউ।